চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি ও বিরল খনিজ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ নিয়ে চাপে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। চীনা পণ্যের আমদানি বাড়তে থাকায় দুই পক্ষের বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা আরও গভীর হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিরোধ নিরসনে সমমর্যাদার সংলাপ ও সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।
সম্প্রতি চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাওর সঙ্গে বৈঠক করতে চীন সফর করেন ইইউর বাণিজ্যবিষয়ক কমিশনার মারোস সেফকোভিচ। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য ঘাটতি দৈনিক ১০০ কোটি ইউরো ছাড়িয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, দুই পক্ষের মতপার্থক্য দূর করতে উন্মুক্ত সহযোগিতা ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে সংলাপ প্রয়োজন। স্থিতিশীল বাণিজ্যিক সম্পর্ক উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাণিজ্য ও বিরল খনিজ নিয়ে উদ্বেগ
ইউরোপীয় সরকার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ, চীনা পণ্য ইউরোপের বাজারে ব্যাপক প্রবেশাধিকার পেলেও চীনে ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নানা বাধার মুখে পড়ে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের অনিশ্চয়তার মধ্যে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য বজায় রাখা চীনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
বৈদ্যুতিক গাড়ি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত বিরল খনিজের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এসব খনিজ রপ্তানিতে চীনের বিধিনিষেধ ইউরোপের সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিকল্প উৎস খুঁজলেও চীনের ওপর নির্ভরতা দ্রুত কমানো কঠিন।
সমঝোতার পথে কূটনৈতিক তৎপরতা
এদিকে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইমানুয়েল বোনের ৯ থেকে ১৩ অক্টোবর চীন সফরের কথা রয়েছে। সফরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
ইইউর লক্ষ্য হলো বাণিজ্য ঘাটতি কমানো ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার করা, আর চীন চায় ইউরোপের বাজারে নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার। আলোচনা সফল হলে সম্পর্ক স্থিতিশীল হতে পারে। ব্যর্থ হলে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে ইউরোপ।

মন্তব্য করুন