পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে কেন্দ্রীয় সরকারের জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান গহর আলী খান। একই সঙ্গে কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্ত্রী ও বোনদের কারাগারে পাঠানোর কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন গহর আলী খান। তাঁর দল খাইবার পাখতুনখাওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত রোববার খাইবার পাখতুনখাওয়ায় গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেয় প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। সন্ত্রাসবাদ দমনে প্রাদেশিক সরকারের ‘ইচ্ছাকৃতভাবে নিষ্ক্রিয় থাকার’ অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রদেশটিতে পিটিআই নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় ছিল।

বুধবার জাতীয় পরিষদে অনুমোদনের পর পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটেও জরুরি অবস্থা জারির প্রস্তাব পাস হয়। তবে এ নিয়ে দুই কক্ষেই সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে উত্তপ্ত বিতর্ক হয়।

সিনেটে প্রস্তাবটি পাসের সময় পিটিআইয়ের সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। দলটির সিনেটর হুমায়ুন মোহমান্দ অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসবাদ দমনের বিষয়টি সামনে আনা হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকৃত লক্ষ্য পিটিআইকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করা।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীরা অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় খাইবার পাখতুনখাওয়ার পিটিআই নেতৃত্বাধীন সরকারের যথেষ্ট সদিচ্ছা ছিল না।

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি এ পরিস্থিতির জন্য পিটিআইকে দায়ী করেন। তাঁর মতে, দলটির কর্মকাণ্ডই কেন্দ্রীয় সরকারকে জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।

এদিকে, গহর আলী খান জানিয়েছেন, জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেছে পিটিআই। তিনি বলেন, তাঁর দল সব সময় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (এনএপি) অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণার মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার ও বিরোধী দলটির বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।