জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণি অভিযোগ করেছেন, মাছরাঙা টেলিভিশনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তার ও অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর বিকৃত ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় তার স্বাভাবিক জীবন ও কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের দেওয়া বিবৃতিতেও সন্তুষ্ট নন তিনি। চার দিনেও অপরাধীদের শনাক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে মাছরাঙা টেলিভিশনকে উদ্দেশ করে পরীমণি এসব কথা বলেন।

তিনি লেখেন, ‘ডিয়ার মাছরাঙা টেলিভিশন, আপনাদের এই জাস্ট একটা ফটো কার্ডের দুঃখ প্রকাশ কোনও কাজে দিচ্ছে না একদমই।’

পরীমণি অভিযোগ করেন, এ ঘটনার কারণে তার স্বাভাবিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের কাজ কিংবা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে পোস্ট করতেও সমস্যায় পড়ছেন তিনি। এমনকি তার সন্তানদের ছবিতেও অসংখ্য নেতিবাচক মন্তব্য করা হচ্ছে বলে জানান অভিনেত্রী।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘আমার জীবনের মানসিক শান্তি নষ্ট করে দিলেন! আমার কাজ নষ্ট করে দিলেন। এরপর কী বাকি থাকল আর।’

অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার বিষয়ে মাছরাঙা টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে পরীমণি প্রশ্ন তোলেন, তাদের কবে আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি লেখেন, ‘আপনারা বলেছেন অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবেন। আর কবে আনবেন সেটা। আমার কাছে অপরাধী তো এখন আপনারা।’

এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে মাছরাঙা টেলিভিশনের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পরীমণি ও মেহজাবীনের বিকৃত ভিডিওসহ পাঁচটি পোস্ট প্রকাশিত হয়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১১টা পর্যন্ত পোস্টগুলো অ্যাকাউন্টে দেখা যায়।

পরে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করে দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, তাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কথাও জানানো হয়।

তবে ঘটনার পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও অপরাধীদের শনাক্ত করা হয়নি বলে দাবি করেছেন পরীমণি। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানির বিষয়টি তুলে ধরে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।