সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নাজেরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সিতি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটের ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছে বাংলাদেশ মাইগ্রেন্টস ফাউন্ডেশন (বিএমএফ) ও বাংলাদেশ মাইগ্রেশন ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (বিএমডিএফ)।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠন দুটি এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করে। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে দুই বাংলাদেশির জীবন রক্ষায় সরকার কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিল, তা জনসমক্ষে প্রকাশের আহ্বান জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট দুই নাগরিকের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে কী ধরনের যোগাযোগ ও আলোচনা হয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ড ঠেকাতে সরকার কী উদ্যোগ নিয়েছিল—এসব প্রশ্নের স্বচ্ছ, তথ্যভিত্তিক ও পূর্ণাঙ্গ জবাব প্রয়োজন।
সংগঠন দুটি মনে করে, মামলার অগ্রগতি, আইনি সহায়তার ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা জরুরি। পাশাপাশি পুরো ঘটনা পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রবাসী কর্মীদের শ্রম ও ঘামে অর্জিত রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাই বিদেশের মাটিতে তাঁদের জীবন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় কার্যকর কূটনৈতিক ও কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বিএমএফ ও বিএমডিএফ। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সরকারের নেওয়া কূটনৈতিক উদ্যোগের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ, বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটের আইনি সহায়তার ভূমিকা স্পষ্ট করা, সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনার তথ্য প্রকাশ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ পর্যালোচনার মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া ভবিষ্যতে বিদেশে মৃত্যুদণ্ডসহ গুরুতর আইনি সংকটে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য কার্যকর আইনি সহায়তা, কনস্যুলার সেবা ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ মাইগ্রেন্টস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জয়। তিনি বাংলাদেশ মাইগ্রেশন ডেভেলপমেন্ট ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক (কল্যাণ) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
সংগঠন দুটি বলেছে, বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক গুরুতর আইনি সংকটে পড়লে তাঁর পাশে দাঁড়ানো, ন্যায়বিচারের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং জীবন রক্ষায় সম্ভাব্য সব আইনসম্মত উদ্যোগ নেওয়া রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দিয়ে সরকারকে জনসাধারণের সামনে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।


মন্তব্য করুন