https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর পুশ ইনের শিকার ১১ জন প্রায় ৪৩ ঘণ্টা ধরে দুই দেশের শূন্যরেখার কাছে অবস্থান করছেন। দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান না হওয়ায় তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১১ জনকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে তাদের গ্রহণ না করায় তারা সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় আটকে পড়েন।
আটকে পড়াদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ৪ জন শিশু রয়েছে। তাদের একজন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং একজন প্রতিবন্ধী শিশু। খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করায় তারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এক কিশোর জানায়, সে বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারতের কলকাতায় বসবাস করছিল। আটক হওয়ার পর তাদের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ঘুরিয়ে শেষ পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও সীমান্তে এনে রেখে যাওয়া হয়েছে। দ্রুত নিজ বাড়িতে ফিরতে চায় সে।
স্থানীয়দের মতে, সীমান্তে অবস্থানরত এসব মানুষের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। মানবিক কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা কিছু খাবার সরবরাহ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।
৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেছেন, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে অবৈধ পুশ ইনের বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। যথাযথ প্রমাণসহ বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে হস্তান্তর করা হলে আইন অনুযায়ী তাদের গ্রহণ করা হবে, অন্যথায় নয়।
দীর্ঘ সময় ধরে সমাধান না হওয়ায় সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়রা মানবিক সংকট নিরসনে দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।