https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
সমন্বিত নীতি ও বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ব্লু-ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারে বলে মত দিয়েছেন সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা। এ লক্ষ্যে গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ, সামুদ্রিক বায়োটেকনোলজি এবং মূল্য সংযোজিত সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণে কৌশলগত বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা) ও জাইকা বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ‘বাংলাদেশে মৎস্য ও সামুদ্রিক অর্থনীতিতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে এ আহ্বান জানানো হয়।
সেমিনারে মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় বঙ্গোপসাগরকে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি জানান, সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয় ও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ বৈশ্বিক মৎস্য রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অর্জন করতে পারে।
মূল প্রবন্ধে অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম বলেন, বর্তমানে সামুদ্রিক সম্পদ থেকে বছরে প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হলেও টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে এ আয় দ্বিগুণ বা তিনগুণ পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তিনি আধুনিক গভীর সমুদ্রগামী মাছ ধরার জাহাজে বিনিয়োগ, সামুদ্রিক জৈবপ্রযুক্তির বিকাশ এবং টুনাসহ উচ্চমূল্যের মাছ আহরণে গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবহার করে ওষুধ, খাদ্য-পরিপূরক, প্রসাধনী, সামুদ্রিক শৈবালভিত্তিক শিল্পপণ্য ও পশুখাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে নতুন রপ্তানি বাজার সৃষ্টি এবং আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে নীতিগত সমন্বয়, অবকাঠামো উন্নয়ন, আর্থিক প্রণোদনা এবং গভীর সমুদ্রে বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।