ঢাকা
২৮ আগস্ট ২০২৬

ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কমিয়ে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা, নীতি সুদহার অপরিবর্তিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬   ৩০ বার পঠিত
ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কমিয়ে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা, নীতি সুদহার অপরিবর্তিত

ছবি: -সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই–ডিসেম্বর) নতুন মুদ্রানীতি (এমপিএস) প্রকাশ করেছে। এতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমানো হলেও নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। এটি বর্তমান সরকারের আমলে এবং তার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম মুদ্রানীতি। এ সময় মুদ্রানীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যেই এ মুদ্রানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের মুদ্রা সরবরাহ, ঋণ প্রবাহ, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সম্পদের ব্যবস্থাপনায় দিকনির্দেশনা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি বছর দুই দফায় মুদ্রানীতি ঘোষণা করে।

নতুন মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ)–এর হার আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর রেপো সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সরকার আগামী অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সেই লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। তবে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির হার এখনও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় দুই শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে দেশের পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। অন্যদিকে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সাময়িক হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।

বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ প্রত্যাশিত মাত্রায় না বাড়ায় নতুন মুদ্রানীতিতে এ খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের অর্থবছরে জুন পর্যন্ত এ লক্ষ্য ছিল ৮ শতাংশ, তবে মে মাস পর্যন্ত প্রকৃত প্রবৃদ্ধি নেমে আসে মাত্র ৫ শতাংশে।

এদিকে অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১০ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।