https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, ডিজিটাল কারসাজি, জাল সনদ, নম্বর জালিয়াতিসহ প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা গৃহীত হয়।
নতুন সংশোধনের মাধ্যমে ১৯৮০ সালের ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন’ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলার উপযোগী করে হালনাগাদ করা হয়েছে। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রায় ৪৫ বছর আগে প্রণীত বিদ্যমান আইনটি ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে কার্যকর না হওয়ায় যুগোপযোগী সংশোধন প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
সংশোধিত আইনে প্রথমবারের মতো ‘ডিজিটাল কারসাজি’র সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, পাবলিক পরীক্ষার ডাটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য পরিবর্তন বা মুছে ফেলার মতো অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
আইনে প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র ফাঁসের শাস্তিও কঠোর করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্নপত্র বা উত্তরপত্র নিজের কাছে রাখা, প্রকাশ, প্রচার বা বিতরণ করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।
পরীক্ষাকক্ষে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন বা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া অনুমোদনহীন পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপন বা পরিচালনা, কিংবা এ ধরনের কার্যক্রমে নিজস্ব স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত বা কম নম্বর দিয়ে পরীক্ষার ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।
সংশোধিত আইনে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধে কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা কিংবা তদারকির ব্যর্থতার ক্ষেত্রেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে জনস্বার্থে অপরাধের তথ্য প্রকাশকারী তথ্যদাতাদের (হুইসেলব্লোয়ার) দেওয়ানি, ফৌজদারি ও বিভাগীয় দায় থেকে আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।
আইনে আরও বলা হয়েছে, এ আইনের অধীন অভিযুক্ত কোনো শিশুর বিচার শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
সংশোধিত আইনে অপরাধগুলোকে আমলযোগ্য (কগনিজেবল) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়াই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে। এসব মামলার বিচার মহানগর এলাকায় মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট এবং অন্যান্য এলাকায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে সম্পন্ন করবেন।
নতুন আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষমতাও সরকারকে দেওয়া হয়েছে।