ঢাকা
০৭ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির অভিযোগ, মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ সাত সকালেই সড়কে ঝরল ১৬ প্রাণ, দুই মহাসড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা সিলেটে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৭ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা, কোথাও হতে পারে ভারী বর্ষণ পোশাক শিল্পে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বে কড়াকড়ি, নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর ট্রাম্পের শেখ হাসিনাকে ভারত কথা বলার সুযোগ কেন দিল : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাঝ আকাশে প্লেনের দরজা খোলার চেষ্টা, ভারতীয় যাত্রীর অদ্ভুত কাণ্ড বগুড়ায় বাসচাপায় ৬ শ্রমিক নিহত, যান চলাচল বন্ধ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে ডাকা হবে সংসদের বিশেষ অধিবেশন

পোশাক শিল্পে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬   ০ বার পঠিত
পোশাক শিল্পে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া

ছবি: <--ছবির সোর্স সিলেক্ট করুন-->

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে শুধু বেশি উৎপাদনের খাত হিসেবে নয়, উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্পে রূপান্তরের বড় সম্ভাবনা দেখছে দক্ষিণ কোরিয়া। কৃত্রিম তন্তু, ফাংশনাল ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন প্রযুক্তি এবং গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলো।

কোরিয়া ট্রেড-ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন এজেন্সির (কোটরা) ঢাকার উপপরিচালক লি সুং-হুন বলেন, বাংলাদেশের পোশাক খাত এখনো মূলত প্রাকৃতিক তন্তুনির্ভর। ফলে কৃত্রিম তন্তু ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে একই পরিমাণ উৎপাদন থেকে আরও বেশি মূল্য আয় করার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৪ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। কিন্তু বৈশ্বিক বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। সাধারণ পোশাকের পাশাপাশি এখন ফাংশনাল ফ্যাব্রিক, পারফরম্যান্স ওয়্যার, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে বাংলাদেশের পণ্যের বৈচিত্র্য ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

এখানেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার বড় সুযোগ দেখছে কোটরা। স্বয়ংক্রিয় কাটিং ও সেলাই ব্যবস্থা, আধুনিক পরিদর্শন প্রযুক্তি, জ্বালানি-সাশ্রয়ী কারখানা এবং উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থায় কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ দিতে আগ্রহী।

বাংলাদেশের টেক্সটাইল যন্ত্রপাতির বাজার বর্তমানে প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। কোটরার মতে, আধুনিক যন্ত্রপাতিতে বিনিয়োগ বাড়লে উৎপাদনশীলতা যেমন বাড়বে, তেমনি শ্রমনির্ভর উৎপাদন থেকে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে দেশের পোশাক শিল্প।

তবে সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ইউরোপের নতুন পরিবেশগত ও পণ্যের মানসংক্রান্ত বিধিমালা। সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বচ্ছতা, কার্বন নিঃসরণ, পরিবেশবান্ধব নকশা এবং ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট-এর মতো নতুন নিয়ম রপ্তানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এসব মান পূরণে বাংলাদেশি কারখানাগুলোকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে কোরিয়ার আইন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করছে কোটরা।

পরিবেশবান্ধব উৎপাদনেও বাংলাদেশ ইতিমধ্যে এগিয়ে। দেশে বিশ্বের অন্যতম বড় সংখ্যক লিড সনদপ্রাপ্ত সবুজ পোশাক কারখানা রয়েছে। এখন সেই সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক নতুন পরিবেশগত মানদণ্ডের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। ১৯৭৮ সালে ডেইউর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমানে বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের প্রায় ৭০ শতাংশই টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতে কেন্দ্রীভূত।

তবে কোরিয়ার আগ্রহ শুধু পোশাকেই সীমাবদ্ধ নয়। ওষুধ ও বায়োটেকনোলজি, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্মার্ট পরিবহন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ভোগ্যপণ্য খাতেও বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখছে তারা।

বিশেষ করে বাংলাদেশের ওষুধ খাতে এপিআই, ক্যানসারের ওষুধ, ভ্যাকসিন ও বায়োলজিকস উৎপাদনে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছে কোটরা। একই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির কারণে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও কোরিয়ান সৌন্দর্যপণ্যের বাজারেও সম্ভাবনা দেখছে দক্ষিণ কোরিয়া।

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে কোরিয়ান বিনিয়োগ আরও আকর্ষণ করতে নিয়ন্ত্রক নীতির ধারাবাহিকতা, অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগের অর্থ সহজে নিজ দেশে নেওয়ার সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে কোটরা।

দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা স্পষ্ট—বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের পরবর্তী সাফল্য শুধু কত বেশি পোশাক তৈরি হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করবে না; বরং কত বেশি মূল্য সংযোজন করা যাচ্ছে, প্রযুক্তি কতটা ব্যবহার করা যাচ্ছে এবং বিশ্ববাজারের নতুন চাহিদার সঙ্গে কত দ্রুত মানিয়ে নেওয়া যাচ্ছে, সেটিই হবে মূল বিষয়।

August 2026
SMTWTFS
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031