পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান স্বপদে বহাল থেকেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য তিনি মন্ত্রিত্ব ছাড়ছেন না; বরং সাধারণ পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন চলাকালে প্রয়োজন অনুযায়ী ছুটিতে থাকবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনের সময় কয়েক সপ্তাহের জন্য তিনি সেখানে অবস্থান করবেন। তবে বাকি সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করবেন।
দেশে ফিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খলিলুর রহমান বলেন, একইসঙ্গে এ দুটি দায়িত্ব পালনের নজির অতীতেও রয়েছে। বিশ্লেষকরাও বলছেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব সার্বক্ষণিক নয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে এ ধরনের উদাহরণ রয়েছে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সাবেক কর্মকর্তা ড. সেলিম জাহান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ূন রশিদ চৌধুরীও মন্ত্রিত্ব বজায় রেখেই সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, খলিলুর রহমান যদি জাতিসংঘের দায়িত্ব পালনে নিউইয়র্কে অবস্থান করেন, তাহলে মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালিত হবে নিয়মিত প্রক্রিয়ায়। এ ক্ষেত্রে প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবেন।
নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ভোটে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে পরাজিত করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন খলিলুর রহমান। আগামী এক বছর তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে শান্তি, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবাধিকার, অভিবাসন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জাতিসংঘ সংস্কারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৩ সদস্যবিশিষ্ট জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও কূটনৈতিক অবস্থানের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।