কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকায় একজন কৃষকের সফল আঙুর চাষ স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত আঙুর এখন বাংলাদেশেই উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শরিফপুর গ্রামের কৃষক আক্তারুজ্জামান সেকুল তার ৮২ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে লাল ও কালো রঙের আঙুরের বাগান গড়ে তোলেন। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য তিনি ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে বাগানটি স্থাপন করেন।
বাগানে বাইনুকুর, রাশিয়ান ভ্যারাইটি এবং তুরস্কের সিডলেস জাতসহ কয়েকটি উন্নত জাতের আঙুর চাষ করা হয়েছে। মাত্র ১০ মাসের মধ্যেই গাছে ফল ধরতে শুরু করে, যা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
বর্তমানে বাগানে প্রায় ২০০টি আঙুরের থোকা রয়েছে, যার মোট ওজন প্রায় ১০০ কেজির মতো। কৃষক সেকুল প্রথম বছর অতিরিক্ত ফলন না নিয়ে গাছের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ও উৎপাদন সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি জানান, সঠিক প্রযুক্তি ও পরিচর্যার মাধ্যমে বাংলাদেশেও আঙুর চাষ সফলভাবে করা সম্ভব। ভবিষ্যতে তিনি বাণিজ্যিকভাবে আঙুর উৎপাদন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন এবং স্থানীয় কৃষকদের এ চাষে উৎসাহিত করছেন।
বাগানটি দেখতে প্রতিদিনই আশপাশের এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। অনেকেই গাছ থেকে সরাসরি আঙুর পেড়ে খাওয়ার অভিজ্ঞতা নিচ্ছেন। দর্শনার্থীদের মতে, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই আঙুর স্বাদে ও গুণে বিদেশি ফলের সমতুল্য।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, কুমিল্লার উঁচু জমি ও টিলাভূমি আঙুর চাষের জন্য সম্ভাবনাময়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ প্রকল্পকে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে এবং আগ্রহী কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবে আঙুর চাষ সম্প্রসারিত হলে এটি কৃষকদের জন্য নতুন আয়ের উৎস তৈরি করবে এবং দেশের ফল আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সহায়তা করবে।