বাংলাদেশ ও তুরস্ক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সম্ভাবনা যাচাইয়ে সম্মত হয়েছে।
রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান অংশ নেন। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই পক্ষই সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, এটি বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ককে কৌশলগত স্তরে উন্নীত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তিনি জানান, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি উভয় দেশ একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের কল্যাণ অগ্রাধিকার পায়।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় তুরস্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। প্রতিরক্ষা শিল্প, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং সংকটের স্থায়ী সমাধানে তুরস্কের অব্যাহত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
উভয় পক্ষই আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে অভিন্ন অবস্থানের কথা উল্লেখ করে সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।
দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসা হাকান ফিদান পরে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং মানবিক সংকট সম্পর্কে সরেজমিনে অবগত হন।