মস্কোর পক্ষ থেকে ক্রমবর্ধমান হুমকির প্রেক্ষাপটে, যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করার সক্ষমতা নিয়ে সোমবার রাশিয়ার উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিতে পারেন ন্যাটোর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার।

ন্যাটো কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জোটের ‘সুপ্রিম অ্যালাইড কমান্ডার ইউরোপ’—মার্কিন জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেউইচ—ওয়ারশতে আয়োজিত একটি নিরাপত্তা সম্মেলনে সম্ভাব্য যেকোনো আক্রমণের বিরুদ্ধে তাঁর ‘বিজয়ের তত্ত্ব’ (থিওরি ওব ভিক্টোরি) বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন।

শীর্ষ এই সামরিক কমান্ডারের এই পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে নেওয়া হচ্ছে যখন ন্যাটো মস্কোকে একটি বার্তা দিতে চাইছে। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ইউক্রেনের মিত্রদের বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাত ও হস্তক্ষেপের এক ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র কৌশলের অভিযান চালাচ্ছে মস্কো; ন্যাটো চায় তারা যেন তা বন্ধ করে।

জার্মানির একটি বিমানবন্দরে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন উদ্ধারের মতো বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর গত কয়েক মাসে এমন আশঙ্কা বেড়েছে যে, ক্রেমলিন তাদের তৎপরতা আরও জোরদার করছে।

গত সপ্তাহে মার্কিন জেনারেলের মুখপাত্র কর্নেল মার্টিন ও’ডনেল বলেন, “সুপ্রিম অ্যালাইড কমান্ডার ইউরোপের বিজয়ের তত্ত্বটি সহজ: ন্যাটোর সুবিধাজনক অবস্থান বজায় রাখা—যা জোটের প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে।”

ও’ডনেল আরও বলেন, “তবে বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল ও জটিল হওয়ায়, আগ্রাসন প্রতিরোধ এবং প্রয়োজনে আক্রমণের মুখে জয়লাভের জন্য আমাদের এখনই প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বা শর্তাবলি তৈরি করতে হবে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, এই তত্ত্বটি ঠিক সেই কাজটি করার একটি কাঠামো বা রূপরেখা প্রদান করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়নকে মোকাবিলার লক্ষ্যে গঠিত ন্যাটো প্রথাগতভাবেই রাশিয়ার যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করার প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে রক্ষা করে থাকে।

গ্রিনকেউইচের এই বক্তব্যের মাধ্যমে ন্যাটোর কৌশল সম্পর্কে খুব বেশি নতুন তথ্য প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা কম; বরং এর উদ্দেশ্য হলো মস্কোকে একটি বার্তা দেওয়া এবং জোটের পূর্বাঞ্চলীয় সদস্য দেশগুলোকে আশ্বস্ত করা।

ন্যাটো বরাবরই বলে আসছে যে তারা একটি আত্মরক্ষামূলক জোট এবং রাশিয়ার ওপর আক্রমণ চালানোর কোনো অভিপ্রায় তাদের নেই।

পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, ইউক্রেনে ক্রেমলিনের বাহিনী যখন স্থবির হয়ে পড়েছে, তখন মস্কোর ‘হাইব্রিড আক্রমণ’গুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং এগুলোর কারণে বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

সশস্ত্র রুশ আগ্রাসন প্রতিরোধই এই জোটের মূল লক্ষ্য হলেও, সরাসরি যুদ্ধ বা সংঘাতের ঠিক নিচের স্তরে—অর্থাৎ ‘গ্রে জোন’ বা অস্পষ্ট সংঘাতের পরিসরে—ঘটা ঘটনাগুলোর মোকাবিলা কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে জোটটি হিমশিম খাচ্ছে। ন্যাটোর বেসামরিক প্রধান মার্ক রুটে বিভিন্ন দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা “শান্ত থাকে, স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যায় এবং ইউক্রেনকে সমর্থন দেয়।”

গত মাসে রুটে বলেছিলেন, “রাশিয়ার বিষয়ে আমাদের কোনোভাবেই অসতর্ক বা সরল হওয়া চলবে না… তবে তারা জানে যে আমরাই অধিক শক্তিশালী।”

কিন্তু রাশিয়ার তৎপরতা এমন এক সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে যখন ইউরোপ সম্ভাব্য এক নাজুক পরিস্থিতির মুখে রয়েছে। পেন্টাগন ইউরোপে তাদের সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করছে, আর এর ফলে সেখানে মার্কিন সেনা সংখ্যা হ্রাসের আশঙ্কায় মিত্র দেশগুলো এখন প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ার ফলাফল বছরের শেষের দিকে ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সংশয় বেড়ে যাওয়ায় ইউরোপীয় দেশগুলো ইতিমধ্যেই তাদের সামরিক সক্ষমতা জোরদার করার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে।