প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহ বেড়েছে। জাপানের কাছেও বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
হুমায়ুন কবীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব, গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার এবং উন্নয়নমূলক উদ্যোগ জাপানের আস্থা অর্জনে ভূমিকা রাখছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে মঙ্গলবারের বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও উন্নয়ন প্রচেষ্টার প্রতি জাপানের সমর্থনের বিষয়টি উঠে এসেছে।
তিনি জানান, দুই দেশের সম্পর্ককে ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বের গণ্ডি ছাড়িয়ে কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে উন্নীত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সফরে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ছয়টি সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি দুটি ইয়েন ঋণ প্রকল্পে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিভিন্ন খাতে সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সফরে বাংলাদেশের প্রতি জাপানি বেসরকারি খাতের আগ্রহের বিষয়টিও তুলে ধরেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, বিভিন্ন খাতে প্রায় ৬০০ কোটি মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।
বাংলাদেশকে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, কর প্রণোদনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি। বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
হুমায়ুন কবীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী বুধবার জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী জাপানি পোশাক ব্র্যান্ড ইউনিক্লোর সদর দপ্তর পরিদর্শন করে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) উদ্যোগে আয়োজিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামেও বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী, দক্ষ জনশক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতার সম্ভাবনা জাপানি ব্যবসায়ীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সড়ক, রেলপথসহ বিভিন্ন অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করা।
প্রধানমন্ত্রীর সফর বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন হুমায়ুন কবীর।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন