মঙ্গলবার ভোরে বুলগেরিয়ার উপকূলে ড্রোন হামলার পর একটি কার্গো জাহাজ ডুবে যায়; জাহাজটির ১৬ জন নাবিকের মধ্যে ১৪ জনই ছিলেন সিরীয় নাগরিক। জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ চলার মধ্যেই সিরিয়ান নাবিক ইউনিয়ন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বুলগেরীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কৃষ্ণ সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর রাতের বেলা চালানো দুটি হামলার একটির শিকার হয়ে গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ‘এইচএস ডিগনিটি’ জাহাজটি বুলগেরিয়ার ক্রাপেটস গ্রামের ১৫ নটিক্যাল মাইল পূর্বে ডুবে যায়।
সিরিয়ার আল-ইখবারিয়া টিভিকে নাবিক ইউনিয়ন জানিয়েছে যে, জাহাজটিকে একটি আকাশপথের ড্রোন এবং দুটি চালকবিহীন জলযান (আনম্যানড সারফেস ভেসেলস্) দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। এতে পাঁচজন নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি ১১ জনের সন্ধানে ছয়টি নৌকা ও দুটি হেলিকপ্টার তল্লাশি চালাচ্ছে।
অন্য হামলায়, বুলগেরিয়ার উপকূলীয় শহর বিয়ালার কাছে ইউক্রেনীয় মালিকানাধীন ও মাল্টার পতাকাবাহী ‘চেলসি ৩’ জাহাজটিকে তিনটি ড্রোন আঘাত করে। বুলগেরীয় সীমান্ত পুলিশ জাহাজের ১৫ জন নাবিককেই—যাদের মধ্যে সাতজন ইউক্রেনীয় এবং আটজন আজারবাইজানি—উদ্ধার করে ভার্না বন্দরে নিয়ে আসে। কর্তৃপক্ষের মতে, এদের মধ্যে কয়েকজন আহত হয়েছিলেন এবং তাদের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ৬ অক্টোবর বিয়ালার প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল পূর্বে বুলগেরিয়ার বিশেষ অর্থনৈতিক সামুদ্রিক অঞ্চলে আকাশ ও সমুদ্রপথের ড্রোনের আঘাতে আরও দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বুলগেরীয় সরকার জানিয়েছে, ওই ঘটনায় টোগোর পতাকাবাহী ‘আলফা ওয়াতান’ ডুবে যায় এবং পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘এবেল’ -এ আগুন ধরে যায়।
‘এবেল’ জাহাজের ১৮ জন নাবিককেই উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে ‘আলফা ওয়াতান’-এ ঠিক কতজন লোক ছিলেন, সে বিষয়ে তথ্যের ভিন্নতা রয়েছে; সিরীয় কর্তৃপক্ষের মতে এর নাবিকদলে নয়জন সিরীয় ও একজন মিশরীয় ছিলেন, অন্যদিকে বুলগেরীয় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয় যে সেখানে ১২ জন সিরীয় নাবিক ছিলেন। সিরীয় কর্তৃপক্ষ ৮ অক্টোবর এই জাহাজডুবির ঘটনার একটি “নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ” তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিল।
গত সপ্তাহের ওই হামলার জেরে বুলগেরীয় কর্তৃপক্ষ রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা মস্কোর বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং কৃষ্ণ সাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টির অভিযোগ এনেছেন। তবে বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ বলেছেন, কারা এই হামলা চালিয়েছে সে বিষয়ে তাঁর দেশের কাছে কোনো স্পষ্ট ও অকাট্য প্রমাণ নেই; যদিও তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এসব হামলার ফলে রাশিয়ারই লাভ হয়েছে।
মস্কো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই হামলা সম্পর্কে তাদের কোনো জানা নেই। এর আগে বুলগেরিয়ায় অবস্থিত রুশ দূতাবাস গত সপ্তাহের হামলার ঘটনায় রাশিয়ার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছিল।

মন্তব্য করুন