মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়া ফিফার শান্তি পুরস্কারের ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্যালোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। চলতি বছরের শেষ দিকে এ পুরস্কারের কার্যকারিতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে মূল্যায়ন করবে ফিফা। এরপর আগামী ডিসেম্বরে এটি চালু রাখা হবে, নাকি বন্ধ করে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফার ফুটবল সামাজিক দায়বদ্ধতা কমিটি এ বিষয়ে একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পুরস্কারটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে। শেষ পর্যন্ত পুরস্কারটি বন্ধ হয়ে গেলে ট্রাম্পই এর প্রথম ও একমাত্র বিজয়ী হিসেবে থেকে যাবেন।

গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ফুটবল বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ট্রাম্পের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে হঠাৎ করেই পুরস্কারটি চালুর ঘোষণা দিয়েছিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

শান্তি পুরস্কারটি শুরু থেকেই বিতর্কের মুখে পড়ে। সমালোচকদের প্রশ্ন, রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকার নীতিতে অঙ্গীকারবদ্ধ ফিফা কীভাবে একজন রাজনৈতিক নেতাকে এ ধরনের পুরস্কার দিতে পারে।

ফিফার সভাপতি ইনফান্তিনো অবশ্য ট্রাম্পের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য।

এদিকে, চলতি সপ্তাহে জুরিখে অনুষ্ঠিত ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকেও ইনফান্তিনোকে বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয় নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডেবি হিউইট জানিয়েছেন, ফিফা সভাপতিকে ঘিরে কয়েকটি বিষয়ে তিনি এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান।

সমালোচকদের আলোচনায় রয়েছে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ পরিকল্পনা, ফুটবলার ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ট্রাম্পকে দেওয়া শান্তি পুরস্কার।

ফিফা গত বছর জানিয়েছিল, বিশ্বজুড়ে ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং শান্তির জন্য অসাধারণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দিতে এ পুরস্কার চালু করা হয়েছে।

এখন পুরস্কারটি নিয়ে পর্যালোচনার ফল কী হয়, সেদিকেই নজর থাকবে ফুটবলবিশ্বের। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এমনটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।