চীনের তিব্বত অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিন শতাধিক বাড়িঘর। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এবং ভূমিধসে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে বাধার সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল তিব্বতের নাগকু অঞ্চলের বাকেন এলাকায়। তবে এর কম্পন কামদো ও নিংচি শহরেও অনুভূত হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিকম্পের আঘাতে বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বহু মানুষ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। তিন শতাধিক বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন স্থানে ভূমিধসের কারণে সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে।

ফলে দুর্গম ও উঁচু পার্বত্য এলাকায় পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলগুলোকে বেগ পেতে হচ্ছে। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং দুর্গতদের সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগাযোগব্যবস্থার এই পরিস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে ভূমিকম্পে সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে অতীতেও শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালে দেশটির গানসু প্রদেশে ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে ১২০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

এ ছাড়া দুই মাসেরও কম সময় আগে হিমবাহ ধস, বন্যা ও ভূমিধসে তিব্বত ও নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি শত শত মানুষ নিখোঁজ ছিলেন।

তিব্বতের সর্বশেষ ভূমিকম্পে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম পার্বত্য এলাকায় উদ্ধারকাজ পরিচালনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।