ইউরোপে ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, তাপজনিত মৃত্যুর হিসাবে এবারের গ্রীষ্ম মহাদেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সময়গুলোর একটি হতে পারে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব মৃত্যুর মধ্যে ৩২ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর জন্য সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করা হচ্ছে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে, যার প্রভাবে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।
গবেষণার ফলাফল ‘নেচার হেলথ’ সাময়িকীতে প্রকাশিত দুটি গবেষণাপত্রে তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণার অন্যতম লেখক ও লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের জলবায়ু গবেষক ক্লেয়ার বার্নস বলেন, ইউরোপের বড় একটি অংশে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম তাপজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে রেকর্ডের সবচেয়ে ভয়াবহ সময় হয়ে থাকতে পারে।
গ্রীষ্মের শুরু থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে নজিরবিহীন উচ্চ তাপমাত্রা দেখা যায়। গবেষণা অনুযায়ী, পশ্চিম ইউরোপে এ বছর রেকর্ডে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম ছিল। এ সময় তাপমাত্রা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড়ের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। কিছু দেশে নির্দিষ্ট দিনে তাপমাত্রার ব্যবধান স্বাভাবিকের তুলনায় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।
ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনাগুলোর মধ্যে তাপপ্রবাহকে অন্যতম প্রাণঘাতী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনের আগে প্রকাশিত এই গবেষণার ফলাফল নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এর আগে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছিল, প্রাক্-শিল্প যুগের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্য অর্জন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
গবেষক ক্লেয়ার বার্নস সতর্ক করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্ব এখনো অনেক পিছিয়ে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক সমন্বয় বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

মন্তব্য করুন