দুই দশকের সংগীতজীবনে নানা সাফল্য ও প্রতিকূলতার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যানসি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই শিল্পীর অভিযোগ, শোবিজে ভালো সময়েই মানুষ পাশে থাকে। জনপ্রিয়তা কমে গেলে বদলে যায় আশপাশের মানুষের আচরণ। তাঁর ভাষায়, শোবিজের কাছে সম্পর্কের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিআরপি।

২০০৫ সালে ‘হৃদয়ের কথা’ সিনেমার ‘ভালোবাসবো বাসবোরে’ গানে হাবিব ওয়াহিদের সঙ্গে কণ্ঠ দেওয়ার মধ্য দিয়ে সংগীতাঙ্গনে পরিচিতি পান ন্যানসি। পরে ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’ সিনেমার ‘পৃথিবীর যত সুখ’ ও ‘হাওয়ায় হাওয়ায় দোলনা দোলে’সহ একাধিক গানে শ্রোতাদের মন জয় করেন। ২০১১ সালে ‘পৃথিবীর যত সুখ’ গানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পান তিনি।

সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের দুই দশকের ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলেন ন্যানসি। তিনি জানান, এই দীর্ঘ পথচলা তাঁর জন্য সহজ ছিল না। নিজের নীতিতে চলতে গিয়ে অনেক সময় অসম্মান ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। এমন ঘটনাও ঘটেছে, গানের জন্য নির্ধারিত স্থানে যাওয়ার পরও তাঁকে গান না করেই ফিরে আসতে হয়েছে।

ন্যানসির ভাষ্য, কখনো মঞ্চে ওঠার ঠিক আগমুহূর্তে থানা থেকে খবর পাঠানো হয়েছে, যেন তিনি অনুষ্ঠানে গান না করেন। এসব অভিজ্ঞতা থেকে শোবিজের পরিবেশ নিয়ে তাঁর মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। তবে নিজের অবস্থানকে অভিমান বা ক্ষোভের প্রকাশ হিসেবে দেখছেন না এই শিল্পী। তাঁর মতে, এটি শোবিজের চলমান বাস্তবতা।

ন্যানসি বলেন, একজন শিল্পী জনপ্রিয় থাকলে তাঁকে ঘিরে অনেক মানুষের উপস্থিতি থাকে। কিন্তু জনপ্রিয়তা কমে গেলে সেই মানুষদের আর পাশে পাওয়া যায় না। তাই বিপদের সময় শোবিজের বন্ধুদের কাছ থেকে সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা করাকে তিনি ভুল ধারণা বলে মনে করেন।

তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য, ‘শোবিজ কখনো বন্ধু হয় না। সত্যি বলতে, শোবিজ শুধু টিআরপি চায়।’

বর্তমানে স্টেজ শো ও গান নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন ন্যানসি। সম্প্রতি তাঁর কণ্ঠে প্রকাশ পেয়েছে ‘দিওয়ানা দিল দিওয়ানা’ শিরোনামের একটি গান।