গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। বাকি ১৯টি আসন পেয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন দুটি জোট—জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম।
ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। ফলে উভয় পক্ষকেই অন্য দলের সমর্থন নিতে হবে।
নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো ভালো ফল করলেও তাদের সমর্থন নেওয়া নিয়ে বিরোধী জোটে মতপার্থক্য রয়েছে। অন্যদিকে, এসব দলের ভোটে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। তবে পুলিশ অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে। শিন বেতের পৃথক তদন্ত চলছে।
গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিরোধী দলের নেতারা বৈঠক করে নেতানিয়াহুর সরকার পরিবর্তনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের লক্ষ্য জাতীয় ঐক্য বা জরুরি সরকার গঠন। তবে প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের সমর্থন নিশ্চিত করার বিষয়ে এখনো স্পষ্ট পরিকল্পনা নেই।
নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করে একজনকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন। দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তি ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো যাবে।
এদিকে, সরকার গঠনের সমীকরণে শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দল দুটি ঐতিহাসিকভাবে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিলেও সামরিক বাহিনীতে যোগদানসংক্রান্ত বিরোধে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ইরান পরিস্থিতিও ইসরায়েলের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারায় কঠিন রাজনৈতিক সমীকরণের মুখে পড়েছেন নেতানিয়াহু।


মন্তব্য করুন