যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির হাতে গেলেও ইরানের যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তেহরানের নেতারা বলছেন, ওয়াশিংটনে ক্ষমতায় যে দলই থাকুক, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে মৌলিক কোনো পরিবর্তন হবে না। তাই দেশটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে ইরান।

২০২৪ সালের নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণে ছিল কংগ্রেসের উভয় কক্ষ। তবে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।

তবে ইরানি নেতাদের মতে, ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং ইরানবিরোধী অবস্থানের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য নেই। ফলে নির্বাচনের ফলাফল দুই দেশের সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তন আনবে না।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রণালিতে আরও দুটি জাহাজে আগুন লেগেছে।

বিপ্লবী গার্ডের দাবি, অননুমোদিত পথে চলাচলের সময় একটি সুপার ট্যাংকার সমুদ্রের মাইনের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আগুন ধরে যায়। পরে জাহাজটিকে উদ্ধারে এগিয়ে আসা একটি টাগবোটেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনার বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে দুটি লুকাস ড্রোন ধ্বংস করার দাবিও করেছে ইরান। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলো মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জানিয়েছিল, নির্বাচনের পরপরই ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে পারে ওয়াশিংটন। তবে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।

কংগ্রেসে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বদলালেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা প্রশমনের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। বরং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।