https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর বাজারগুলোতে মসলার চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। তবে অন্যান্য বছরের মতো ঈদের ঠিক আগে হঠাৎ দাম না বাড়লেও, এক থেকে দেড় মাস আগেই বেশ কয়েকটি মসলার দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে তুলনামূলক কম দামে কেনাকাটার আশায় অনেক ক্রেতাই ভিড় করছেন বড় পাইকারি বাজারগুলোতে।
পুরান ঢাকার মৌলভীবাজার, কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর বড় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা দোকানের তুলনায় এসব বাজারে প্রতি কেজিতে ১০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত কম দামে মসলা পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে এলাচ, লবঙ্গ, জিরা, দারুচিনির মতো দামি মসলায় পার্থক্য সবচেয়ে বেশি।
এক ক্রেতা জানান, এলাচ, শুকনা মরিচ, লবঙ্গ, জিরাসহ কয়েক ধরনের মসলা কিনতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২৫০ টাকা। একই পরিমাণ পণ্য খুচরা বাজার থেকে কিনলে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা লাগত বলে দাবি করেন তিনি।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা দোকানে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকায়, কোথাও কোথাও আরও বেশি। অথচ মৌলভীবাজারে একই পণ্য মানভেদে পাওয়া যাচ্ছে ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার টাকায়।
একইভাবে খুচরা বাজারে জিরা ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, দারুচিনি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং লবঙ্গ ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও পাইকারি বাজারে এসব মসলার দাম তুলনামূলক কম। মৌলভীবাজার ও কারওয়ান বাজারে জিরা বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ থেকে ৬৫০ টাকা, দারুচিনি ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং লবঙ্গ প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকায়।
এ ছাড়া গোলমরিচ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা, শুকনা মরিচ ৩২০ থেকে ৪৫০ টাকা, হলুদ ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং তেজপাতা ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এলাচের দাম। গত দেড় মাসে প্রতি কেজিতে প্রায় ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে এ মসলার দাম। বর্তমানে মানভেদে এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার ২০০ টাকায়।
তবে বিক্রি কম হওয়ায় হতাশ ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, গত ১৫ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম ক্রেতা দেখা যাচ্ছে বাজারে।
অন্যদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কারণেই তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) জানিয়েছে, এক বছরের ব্যবধানে শুকনা মরিচের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ, আদা ১৯ শতাংশ, এলাচ ৫ শতাংশের বেশি এবং তেজপাতা ১১ শতাংশ। তবে জিরা, পেঁয়াজ, রসুন ও ধনিয়ার দাম কিছুটা কমেছে।