ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমানো, ঋণ আদায় জোরদার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণ আদায়ে তদারকি বাড়ানো, নিয়মিত ঋণ পরিশোধে গ্রাহকদের উৎসাহিত করা এবং আইনি কাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চতুর্থ বৈঠকে উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে এসব উদ্যোগের কথা জানানো হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি, সেসব ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রতি তিন মাস অন্তর আলোচনা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণ আদায়ের বাধা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে।
মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আগামী দুই থেকে তিন বছরে ঋণ আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রণোদনা দেওয়ার নীতিমালা তৈরি করা হবে। নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে বিদ্যমান নীতিমালাও পর্যালোচনা করা হবে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় আগামী চার থেকে পাঁচ বছরে ঋণ অনুমোদন, তদারকি, আদায় ও শ্রেণিকরণ প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (আইএফআরএস-৯) অনুযায়ী সম্ভাব্য ঋণক্ষতি নিরূপণের ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮১ হাজার ২৩৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৩১ দশমিক ৪১ শতাংশ। গত মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ১৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
এদিকে খেলাপি ঋণ আদায় ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, অর্থঋণ আদালত (সংশোধন) আইন এবং দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেউলিয়াত্ব আইন আধুনিকায়নের কাজ চলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঋণ আদায় বাড়বে, ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরবে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার হবে।

মন্তব্য করুন