দুই দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় অবস্থান করছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করছেন। তবে কূটনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে শুধু তার সফর নয়, বরং তার ব্যক্তিগত প্রভাব ও রাজনৈতিক অবস্থানও।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত হাকান ফিদানকে দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এরদোয়ানের পর তিনিই তুরস্কের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা।
১৯৬৮ সালে আঙ্কারায় জন্ম নেওয়া ফিদান কর্মজীবন শুরু করেন সেনাবাহিনীতে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড থেকে রাজনীতি ও প্রশাসনিক বিজ্ঞানে স্নাতক এবং বিলকেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে তার গবেষণা পরবর্তী জীবনে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
২০০৩ সালে এরদোয়ানের নেতৃত্বে তুরস্কের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (টিকা)-এর দায়িত্ব পেয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। মধ্য এশিয়া, আফ্রিকা ও বলকান অঞ্চলে তুরস্কের প্রভাব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
২০১০ সালে মাত্র ৪২ বছর বয়সে তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এমআইটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান ফিদান। দীর্ঘ ১৩ বছর এ দায়িত্ব পালনকালে তিনি সংস্থাটিকে আধুনিক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করেন। ২০১৬ সালের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থান মোকাবিলাতেও তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৩ সালে এরদোয়ান পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর ফিদানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়। এরপর থেকে জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতিতে তার প্রভাব আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। অনেক বিশ্লেষক তাকে তুরস্কের ‘ব্ল্যাক বক্স’ বা গোপনীয়তার রক্ষক হিসেবে অভিহিত করেন।
বাংলাদেশ সফরের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে তুরস্কের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে দুই দেশের সহযোগিতার সম্ভাবনা আলোচনায় রয়েছে।
তুরস্কের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। এরদোয়ানের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে যেসব নাম সামনে আসে, হাকান ফিদান তাদের মধ্যে অন্যতম। নিরাপত্তা ও কূটনীতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা তার রাজনৈতিক প্রভাব তাকে তুরস্কের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রেখেছে।
ঢাকা সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পাশাপাশি হাকান ফিদানের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভূমিকার গুরুত্বও নতুন করে সামনে এসেছে।