দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশ-ভারতের চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রেলপথে ট্রেন চলাচল। এতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রেললাইন, আন্তর্জাতিক টার্মিনাল, কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। কবে নাগাদ এ পথে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল আবার শুরু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।

১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় এ পথে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ৫৫ বছর পর ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর পুনরায় চালু হয় চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রেল সংযোগ। দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনা ঘিরে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রডগেজ রেললাইন ও ইয়ার্ড দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আন্তর্জাতিক টার্মিনাল, কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন ভবনও পড়ে রয়েছে অযত্নে। এ ছাড়া ওভারব্রিজ ও সংযোগ সড়ক ব্যবহার না হওয়ায় সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সীমান্ত বাণিজ্যের আশায় ব্যাংকঋণ নিয়ে হোটেল, পরিবহন ও সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছিলেন অনেকে। কিন্তু বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় তাঁদের কেউ কেউ ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন।

চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই দেশের সরকারের আলোচনার মাধ্যমে রেল যোগাযোগ পুনরায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানানো হয়নি।

জেলা প্রশাসনের ভাষ্য, রেলপথ চালুর সিদ্ধান্ত দুই দেশের সরকার ও কূটনৈতিক আলোচনার ওপর নির্ভর করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা দ্রুত ট্রেন চলাচল পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এ রেলপথ চালু হলে বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও সরকারি রাজস্ব আয় বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।