ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার হেবরনে ইসরায়েলি বাহিনী দুই ফিলিস্তিনি শিশুকে আটক করেছে। এছাড়া, একটি আবাসিক ভবন থেকে পরিবারগুলোকে বের করে দিয়ে সেটিকে সামরিক ব্যারাকে রূপান্তর করেছে তারা। এই বৃহত্তর সামরিক অভিযানের ফলে হাজার হাজার বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ‘ওয়াফা’ (Wafa)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফরিদ বুরকান জানিয়েছেন যে, তার দুই সন্তান ইয়ামেন ও মুহাম্মদকে শহরের আল-ফাহস এলাকা থেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজতি সামরিক ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
অন্য একটি ঘটনায়, ইসরায়েলি সৈন্যরা মনসুর আল-তুর্কের মালিকানাধীন একটি ভবন থেকে পরিবারগুলোকে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে সেটিকে সামরিক ব্যারাকে পরিণত করেছে। ভবনটি আল-হাইমুনি পরিবারের সামাজিক মিলনকেন্দ্রের পাশেই অবস্থিত।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী একটি বড় আকারের অভিযান চালাচ্ছে। শুক্রবার সেখানে গোলাগুলির ঘটনায় দুই ইসরায়েলি সৈন্য নিহত এবং আরও তিনজন আহত হওয়ার পর এই অভিযান শুরু হয়।
হেবরন পৌরসভার তথ্যমতে, এই অভিযানের ফলে ২ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং মানুষের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পৌর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেইর বাহা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৫০০টি অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের ঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।
সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, যে এলাকায় বন্দুকধারীরা সক্রিয় ছিল, সেখানে সৈন্যরা তল্লাশি চালাচ্ছে। তারা দেইর বাহা—যে এলাকাটিকে সন্দেহভাজন হামলাকারীদের আবাসস্থল বলে মনে করা হচ্ছে—সেখানকার বাসিন্দাদের এলাকাটি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে। অনেক বাসিন্দা পায়ে হেঁটেই শহর ছেড়ে চলে গেছেন।
শুক্রবার গোলাগুলির ঘটনার পর সামরিক বাহিনী জানায়, তারা বন্দুকধারীদের গাড়িতে অস্ত্র খুঁজে পেয়েছে। তাদের ধারণা, ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার পরিকল্পনা ছিল বন্দুকধারীদের; তবে চেকপয়েন্টে বাধা পাওয়ার পর সেখানে গোলাগুলির সূত্রপাত হয়।
এই সামরিক অভিযানটি এমন এক সময়ে ঘটছে যখন ইসরায়েলে নির্বাচন আসন্ন। এই নির্বাচনকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং গত তিন বছরের যুদ্ধকালীন নিরাপত্তা নীতির ওপর একটি গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন