বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফাতেহিকে ঘিরে আবারও আলোচনায় সুকেশ চন্দ্রশেখরের ২০০ কোটি রুপির আর্থিক জালিয়াতির মামলা। এ মামলায় সরকারি সাক্ষী হিসেবে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে হাজির হয়ে নিজের বক্তব্য রেকর্ড করিয়েছেন অভিনেত্রী।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে বক্তব্য রেকর্ডের জন্য নোরাকে আদালতে হাজির হওয়ার সমন পাঠানো হয়েছিল। গত ২ নভেম্বর তার হাজির হওয়ার কথা থাকলেও পূর্বনির্ধারিত কাজের কারণে সেদিন উপস্থিত হতে পারেননি তিনি। পরে শুক্রবার আদালতে গিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।

আদালতে নোরা জানান, চেন্নাইয়ের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগে ব্যক্তিগতভাবে সুকেশ চন্দ্রশেখরকে চিনতেন না তিনি। সুকেশের স্ত্রী লীনা মারিয়া পলের মাধ্যমেই তার সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয়। টি-সিরিজের দেওয়া কর্মসংস্থান ভিসায় ভারতে অবস্থান করছেন বলেও আদালতকে জানান অভিনেত্রী।

তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে চেন্নাইয়ের একটি পাঁচতারকা হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন নোরা। সুকেশের স্ত্রী লীনা মারিয়া পল ছিলেন ওই অনুষ্ঠানের আয়োজক। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল অভিনেত্রীকে। পাশাপাশি নাচের প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন এবং বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের হাতে অর্থ তুলে দেওয়ার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল তাকে।

তবে সুকেশের কাছ থেকে দামি উপহার নেওয়ার অভিযোগে এর আগেও একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন নোরা। ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ও দিল্লি পুলিশ এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

চলতি বছরের আগস্টে সুকেশের হাতে লেখা একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে নোরাকে নিয়ে একাধিক অভিযোগ করেন তিনি। সুকেশের দাবি, মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় বাড়ি কেনার জন্য নোরাকে কয়েক কোটি রুপি দিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি দামি প্রসাধনী, বিদেশি ব্র্যান্ডের ব্যাগ ও বিলাসবহুল গাড়িসহ বিভিন্ন উপহার দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

চিঠিতে নোরার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন সুকেশ। তার দাবি, জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার জন্য নোরা তাকে বারবার প্ররোচিত করতেন। এমনকি জ্যাকুলিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে নোরা ঈর্ষান্বিত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব সুকেশের ব্যক্তিগত দাবি; আদালতে প্রমাণিত তথ্য নয়।

এ মামলায় এর আগে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের নামও আলোচনায় আসে। সুকেশের কাছ থেকে উপহার গ্রহণের অভিযোগে নোরা ও জ্যাকুলিন, দুজনকেই বিভিন্ন সময়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

সরকারি সাক্ষী হিসেবে এবার আদালতে নোরার বক্তব্য রেকর্ডের ঘটনা মামলাটিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। তদন্তে তার দেওয়া বক্তব্য পরবর্তী সময়ে কীভাবে বিবেচিত হয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।