https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
২ জুলাই থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা। এবার পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার। সব পরীক্ষা কেন্দ্রে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা, আর দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা ব্যবহার করবেন বডি-ওর্ন ক্যামেরা।
বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্র এবং ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
তিনি বলেন, এ বছর প্রথমবারের মতো দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে সম্পূর্ণ অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সিসিটিভি মনিটরিং সেল স্থাপন করা হয়েছে। এই সেল থেকে দেশের যেকোনো পরীক্ষা কেন্দ্রের কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। পাশাপাশি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের শরীরে থাকবে বডি-ওর্ন ক্যামেরা, যা নকল প্রতিরোধ ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
এবার ৭৭টি বিষয়ে মোট ২১ দিনে পরীক্ষা শেষ হবে। যেসব দিনে পরীক্ষা থাকবে না, সেসব দিনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চালু থাকবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, অতীতে নকলের অভিযোগ থাকা বা বিতর্কিত ভেন্যু কেন্দ্রগুলো বাতিল করা হয়েছে। তবে হাওর, পার্বত্য অঞ্চল ও দুর্গম চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে কিছু দূরবর্তী কেন্দ্র বহাল রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া সেভেন্থ ডে অ্যাডভান্টিস্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পরীক্ষার্থীদের জন্য শনিবারের পরীক্ষাগুলো বিশেষ ব্যবস্থায় সূর্যাস্তের পর সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রেই অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধিত ১১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৬১ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪৭৭ জন পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছে। অর্থাৎ ৩ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৪ জন বা ৩৩ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেনি।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে নিবন্ধিত ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৮ হাজার ২৬৯ জন ফরম পূরণ করেছে। সেখানে ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না।
অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে নিবন্ধিত ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪২ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৫ হাজার ১৯৭ জন ফরম পূরণ করেছে। এ বোর্ডে ৫৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ নিয়মিত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না।