https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আফ্রিকার স্বাস্থ্য খাতে আবারও কয়েকশ কোটি ডলারের সহায়তার প্রস্তাব দিলেও, এর সঙ্গে যুক্ত কঠোর শর্ত নিয়ে আপত্তি তুলেছে একাধিক দেশ। স্বাস্থ্য সহযোগিতার আড়ালে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগে ঘানা, জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ার মতো দেশগুলো এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি সহায়তা কার্যক্রমে বড় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ইউএসএআইডি বিলুপ্ত করার পর নতুন কাঠামোয় স্বাস্থ্য সহায়তার প্রস্তাব দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। প্রায় ২৫০ কোটি ডলারের এই কর্মসূচিতে প্রথম দেশ হিসেবে গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করে কেনিয়া। পরে আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার আরও ৩২টি দেশ এতে যোগ দেয়।
তবে সব দেশ একই পথে হাঁটেনি। জাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুলাম্বো হাইম্বে অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্য সহায়তার বিনিময়ে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রকে অগ্রাধিকার দেওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, স্বাস্থ্য সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ—দুটি আলাদা বিষয়, এগুলোকে একসঙ্গে বেঁধে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিতে বিদেশি সহায়তা কোনো দাতব্য কার্যক্রম নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার একটি কৌশলগত বিনিয়োগ।
শুধু অর্থনৈতিক শর্তই নয়, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য ও জৈব উপাদান বিদেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে আফ্রিকার কয়েকটি দেশে।
ঘানার তথ্য সুরক্ষা কমিশনের নির্বাহী পরিচালক আরনল্ড কাভারপুও বলেন, একবার স্বাস্থ্য তথ্য দেশের বাইরে চলে গেলে সেগুলোর ওপর আর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। একই ধরনের উদ্বেগ থেকে জিম্বাবুয়াও চুক্তিতে সই করেনি। দেশটির আশঙ্কা, তাদের প্যাথোজেন ব্যবহার করে ভবিষ্যতে ওষুধ বা টিকা তৈরি হলেও সেগুলোর ন্যায্য সুবিধা তারা পাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।