https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক জলপথে বেসামরিক জাহাজে হামলার জবাব এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়ায় এ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথে হামলার ঘটনায় ইরানের বিরুদ্ধে ‘শক্তিশালী সামরিক অভিযান’ পরিচালনা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, বৈশ্বিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এই সামরিক পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে গত মাসে হওয়া সমঝোতা স্মারকের সরাসরি লঙ্ঘন। তিনি সতর্ক করে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরান প্রয়োজনীয় এবং দৃঢ় জবাব দিতে প্রস্তুত।
এদিকে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, সোমবার ও মঙ্গলবারের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক ট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছে। তবে এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা হামলাগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এ ঘটনার জন্য ইরানকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে কাতার ও সৌদি আরবও। পৃথক বিবৃতিতে দুই দেশ দাবি করেছে, তাদের পতাকাবাহী একটি করে ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি বা এর আশপাশে হামলার শিকার হয়েছে এবং এ ঘটনায় তারা ইরানকে দায়ী করছে।
উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের ওপর জ্বালানি খাতে দেওয়া সাময়িক নিষেধাজ্ঞা-ছাড় প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়। গত মাসের সমঝোতার আওতায় ইরানকে সীমিত পরিসরে তেল ও জ্বালানি পণ্য রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলেও নতুন সিদ্ধান্তে সেই সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। তবে ১৭ জুলাই পর্যন্ত আগের অনুমোদনের আওতায় থাকা লেনদেন সম্পন্ন করার সুযোগ থাকবে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন উল্লেখ করে বলেছে, এটি ওয়াশিংটনের অসৎ উদ্দেশ্য, অসংগত আচরণ এবং অবিশ্বস্ততার আরেকটি প্রমাণ। পরিস্থিতি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।