https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বিবেচনায় এটি তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এ কারণে প্রথম ধাপে বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। এ লক্ষ্যে আসন্ন বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
গত ১৩ ও ১৪ মে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বাজেটসংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন পে-স্কেলের রূপরেখা, খাতভিত্তিক বরাদ্দ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর আহরণের চিত্র প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। পরে প্রধানমন্ত্রী নতুন বেতন কাঠামো চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সম্মতি দেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, জুলাই থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাবেন। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার খসড়ায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে। দ্বিতীয় ধাপে বাকি ৫০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা সমন্বয় করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এভাবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করলে বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ কম থাকবে এবং সরকারের অর্থ ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে।
এর আগে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান–এর নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন গত ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সরকারি চাকরির গ্রেড ২০টিই বহাল থাকবে। তবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে গ্রেডভেদে বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।