ঢাকা
১৭ আগস্ট ২০২৬

ছড়িয়ে পড়ছে ইবোলা, বাড়ছে আতঙ্ক

ডেস্ক রিপোর্ট
বুধবার, ২০ মে ২০২৬   ৩২ বার পঠিত
ছড়িয়ে পড়ছে ইবোলা, বাড়ছে আতঙ্ক

ছবি: -সংগৃহীত

কঙ্গোতে ছড়িয়ে পড়া এবোলা পরিস্থিতি আশঙ্কার চেয়েও দ্রুত ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভাইরাসটি ইতোমধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত মিলছে।

ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ডা. অ্যান আনসিয়া বলেন, প্রাদুর্ভাব নিয়ে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে সংক্রমণ ধারণার তুলনায় অনেক দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। কঙ্গোর স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশটিতে ৫১৩ জনের বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন এবং প্রতিবেশী উগান্ডায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

তবে গবেষকদের ধারণা, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। লন্ডনভিত্তিক এমআরসি সেন্টার ফর গ্লোবাল ইনফেকশাস ডিজিজ অ্যানালাইসিসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শনাক্তের বাইরে এখনো বিপুলসংখ্যক রোগী রয়ে গেছেন এবং আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

রোববার ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস এবোলার এই প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৪ এপ্রিল প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার আগেই কয়েক সপ্তাহ ধরে ভাইরাসটি নীরবে ছড়িয়ে পড়ছিল।

বর্তমান সংক্রমণের জন্য দায়ী বান্ডিবুগিও স্ট্রেইনের এবোলা তুলনামূলক বিরল এবং এটির বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা নেই। তবে ডব্লিউএইচও সম্ভাব্য ওষুধ ও চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে।

ডা. আনসিয়া জানান, প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র ডিআর কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশ। ঘনবসতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে সেখানে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ফলে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

সংক্রমণ ইতোমধ্যে সাউথ কিভু প্রদেশ এবং পূর্ব কঙ্গোর বড় শহর গোমাতেও পৌঁছেছে। পরিস্থিতির কারণে প্রতিবেশী রুয়ান্ডা কঙ্গোর সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে।

এদিকে, এক মার্কিন নাগরিকের মধ্যে এবোলার উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তাকে কঙ্গো থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জার্মানির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে নেওয়া হবে। এছাড়া সংস্পর্শে আসা আরও কয়েকজন মার্কিন নাগরিককে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)।

এবোলা একটি প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। শুরুতে এটি সাধারণ ফ্লুর মতো মনে হলেও পরে জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, রক্তক্ষরণ, অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া এবং মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার প্রাদুর্ভাবে ২৮ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হন এবং মারা যান ১১ হাজার ৩২৫ জন। সেটিই ছিল এবোলার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব।

August 2026
SMTWTFS
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031