https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
ঢাকার পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাশের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় তার খণ্ডিত মরদেহ। মঙ্গলবার সকালে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের একটি বাসায় ঘটে যাওয়া এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হয়েছেন সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। ঘটনাটি দেশজুড়ে সৃষ্টি করেছে শোক, আতঙ্ক ও ক্ষোভ।
প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালেও স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল রামিসা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বড় বোন রাইসার সঙ্গে বের হওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু হঠাৎ করেই তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করলে বাসার দরজার বাইরে পড়ে থাকতে দেখা যায় রামিসার এক পাটি জুতা। সেই জুতাই প্রথম সন্দেহের সূত্র হয়ে ওঠে।
রামিসার মা পারভীন আক্তার পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় বারবার ধাক্কা দিলেও ভেতর থেকে কেউ দরজা খুলছিল না। দীর্ঘ সময় পরও সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে পায়। তবে এর আগেই সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, শিশুটির মাথা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় শৌচাগারে পাওয়া যায় এবং শরীরের বাকি অংশ ছিল খাটের নিচে লুকানো। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত ইউনিট।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে ফরেনসিক পরীক্ষা ও সিআইডির প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
পুলিশের ধারণা, হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যেই তা খণ্ডবিখণ্ড করা হয়েছিল। কিন্তু রামিসার মা বিষয়টি টের পেয়ে যাওয়ায় পরিকল্পনা সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আটক করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, দরজায় ধাক্কাধাক্কির পরও দীর্ঘ সময় দরজা না খোলা এবং সোহেলকে পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে স্বপ্নার ভূমিকা তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, সোহেলের বিরুদ্ধে আগেও একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা ছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, তার মধ্যে বিকৃত মানসিকতা ও সহিংস প্রবণতা থাকতে পারে।
রামিসার মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টের পর হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।