https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
আয়কর রিটার্ন দাখিলে নতুন নিয়ম চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এখন থেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা পাবেন করছাড়, আর দেরিতে জমা দিলে গুনতে হবে অতিরিক্ত অর্থ। সময়মতো রিটার্ন দাখিলে উৎসাহ দিতেই এ উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।
নতুন বিধান অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা—যেটি কম, সেই পরিমাণ করছাড় পাওয়া যাবে।
উদাহরণ হিসেবে, কারও আয়কর যদি ১ লাখ টাকা হয়, তাহলে তিনি ৯৫ হাজার টাকা পরিশোধ করলেই হবে। আবার করের পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা হলে তিনি ২ হাজার ৫০০ টাকা ছাড় পাবেন এবং পরিশোধ করতে হবে ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা।
বর্তমানে দেশে সোয়া এক কোটির বেশি কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন)ধারী রয়েছেন। গত অর্থবছরে ৪৫ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন।
জুলাই–সেপ্টেম্বর: পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করছাড়।
অক্টোবর–ডিসেম্বর: কোনো করছাড় বা জরিমানা নেই। নির্ধারিত করই পরিশোধ করতে হবে।
জানুয়ারি–মার্চ: পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ন্যূনতম ৩ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। তবে জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা ৩ হাজার টাকা।
এপ্রিল–জুন: পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। তবে জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা ৫ হাজার টাকা।
এনবিআরের উদাহরণ অনুযায়ী, কারও আয়কর ১ লাখ টাকা হলে জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে তাকে ১ লাখ ২ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। আর এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে জমা দিলে দিতে হবে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা।
করদাতারা ঘরে বসেই এনবিআরের ই-রিটার্ন পোর্টালে লগইন করে বার্ষিক আয়, বিনিয়োগ, ব্যয়, সম্পদ ও দায়সংক্রান্ত তথ্য পূরণ করে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
রিটার্ন জমা দেওয়ার পর ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করে কর পরিশোধ করা যাবে। রিটার্ন সফলভাবে জমা হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র (Acknowledgement Receipt) ও আয়কর সনদও সংগ্রহ করা যাবে।
এনবিআরের আশা, আগেভাগে রিটার্ন দাখিলে করছাড় এবং বিলম্বে জরিমানার এই নতুন ব্যবস্থা করদাতাদের সময়মতো রিটার্ন জমা দিতে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে স্বেচ্ছায় কর পরিপালনের সংস্কৃতি গড়ে ওঠার পাশাপাশি রাজস্ব আহরণও বাড়বে।