৩৯৫ আসনের নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ নিবন্ধিত ভোটার; কর্মসংস্থান, জীবনযাত্রার ব্যয় ও জনসেবা নিয়ে চাপে নতুন সরকার
মরক্কোয় নতুন পার্লামেন্ট নির্বাচনে বুধবার ভোট দিচ্ছেন দেশটির ভোটাররা। তরুণদের মধ্যে বাড়তে থাকা হতাশা, উচ্চ বেকারত্ব এবং উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসনের দাবির মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের নির্বাচন।
স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রগুলো খোলা থাকবে। প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ নিবন্ধিত ভোটার ৩৯৫ আসনের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস-এর সদস্য নির্বাচনে ভোট দেবেন। নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। বৃহস্পতিবারের মধ্যে ফলাফল পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচনের পর গঠিত সরকারকে শক্তিশালী রাজতন্ত্রের সঙ্গে কাজ করতে হবে। কৌশলগত বিভিন্ন বিষয়ে রাজপরিবারের ব্যাপক কর্তৃত্ব রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন সরকারের ওপর কর্মসংস্থান, মজুরি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো দৈনন্দিন সমস্যা মোকাবিলার চাপ থাকবে।
মরক্কো ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ আয়োজন ঘিরে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকিও করবে পরবর্তী সরকার। এ কারণে কেউ কেউ সম্ভাব্য নতুন সরকারকে ‘বিশ্বকাপ সরকার’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
তবে তরুণদের একটি অংশ রাজনৈতিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রার বাস্তব উন্নয়ন হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছে। কেউ বিক্ষোভের পথ বেছে নিয়েছে, আবার কেউ দেশ ছাড়ার বা ভোট না দেওয়ার কথা ভাবছে।
মরক্কোর সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের মধ্য থেকে রাজা সরকারপ্রধান নিয়োগ করেন। কোনো একক দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা কম হওয়ায় সরকার গঠনে জোটের জন্য অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে হতে পারে।
এবার ২৭টি রাজনৈতিক দলের ৭ হাজার ২৮৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রায় এক বছর আগে তরুণদের নেতৃত্বে প্রাণঘাতী বিক্ষোভ এবং মরক্কোর উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত দিয়ে স্পেনের সেউতা অঞ্চলে অভিবাসীদের ব্যাপক প্রবেশের চেষ্টার পর এটিই দেশটির প্রথম নির্বাচন। চরম বামপন্থী দল দ্য ডেমোক্রেটিক পাথসহ কয়েকটি দল নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, নির্বাচনে ‘গণতন্ত্রের ন্যূনতম শর্তাবলি’ অনুপস্থিত। নিষিদ্ধ হলেও কিছুটা ছাড় পাওয়া ইসলামপন্থী সংগঠন আল-আদল ওয়াল ইহসানও একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে।
বিদেশে বসবাসরত মরক্কোর নাগরিকদের সংবিধান ভোটাধিকার স্বীকার করলেও তাদের জন্য ডাকযোগে ভোট বা মরক্কোর কনস্যুলেটগুলোতে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের ব্যবস্থা নেই। ফলে ভোট দিতে তাদের মরক্কোতে সশরীরে যেতে হয় অথবা তাদের হয়ে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত পরিবারের সদস্য বা পরিচিত কাউকে ক্ষমতা দিতে হয়।
জনসংখ্যা বাড়লেও ২০২১ সালের নির্বাচনের পর থেকে মরক্কোয় নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ৯ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিও তুলনামূলক কম হতে পারে।

মন্তব্য করুন