ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মঙ্গলবার জানিয়েছেন যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার বার্ষিকীর আগে তিনি সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রেখেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর কোনো ক্ষতি হলে গাজার বাসিন্দাদের এর জন্য “চড়া মূল্য” দিতে হবে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের কার্যালয় জানিয়েছে, “গাজায় মোতায়েন আমাদের বাহিনীর ওপর ওই দিন হামলা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোর বিষয়ে হামাসের পরিকল্পনার গোয়েন্দা তথ্যের” ভিত্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “দুর্ভাগ্যবশত যদি আমাদের বাহিনীর কোনো ক্ষতি হয়, তবে হামাস ও গাজার জনগণকেই এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে—এবং সেই মূল্য হবে অকল্পনীয় মাত্রার।”

ইসরায়েলের সরকারি পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে এএফপি-র করা হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলাটি ছিল ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা; এতে ১,২২১ জন মানুষ নিহত হয়েছিলেন।

এছাড়া জঙ্গিরা ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে গিয়েছিল, যাদের মধ্যে ৪৪ জন আগেই মারা গিয়েছিলেন।

এর জবাবে ইসরায়েল যে সামরিক অভিযান শুরু করে, তাতে গাজার অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং ৭৪,২০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়—যা হামাসের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও তাদের দেওয়া পরিসংখ্যানকে জাতিসংঘ নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে—এই তথ্য জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় ১,৪৪৪ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছে।

সোমবার হামলার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, “গাজায় হামাসের কোনো শাসন থাকবে না।” তিনি সেই সঙ্গে ওই হামলায় জড়িত বা জিম্মি আটকে রাখা ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন।