যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী ও অভিজাত স্কুলগুলোর নতুন গন্তব্য হয়ে উঠছে ভারত। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার চাহিদা বৃদ্ধি এবং বড় বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দেশটিতে একের পর এক ক্যাম্পাস স্থাপন করছে ব্রিটিশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে ভারতের উচ্চশিক্ষা খাতেও যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপস্থিতি বাড়ছে।

একসময় ব্রিটিশ স্কুলগুলোর বিদেশে সম্প্রসারণের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল চীন। তবে দেশটির নীতিমালা পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর বাড়তি নিয়ন্ত্রণের কারণে ভারত এখন তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভারতে উচ্চ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের একটি বড় অংশ সন্তানদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা দিতে আগ্রহী। ফলে নিজ দেশে থেকেই ব্রিটিশ শিক্ষাক্রমে পড়াশোনা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

ভারতে সম্প্রতি ক্যাম্পাস স্থাপন করেছে বেডফোর্ড স্কুল। পাঞ্জাবের মোহালিতে প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক ক্যাম্পাস চালু হয়েছে। ২০২৩ সালে বেঙ্গালুরুতে কার্যক্রম শুরু করে ঐতিহ্যবাহী হ্যারো স্কুল। মধ্য ভারতের ভোপালে শ্রুসবারি স্কুলের ক্লাস শুরু হয় ২০২৫ সালের আগস্টে। অন্যদিকে, পুনেতে কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে ওয়েলিংটন কলেজ।

এ ছাড়া গুরুগ্রামে ২০২৬ সালের আগস্টে কার্যক্রম শুরু করেছে কুইন এলিজাবেথ স্কুলের শাখা। আগামী কয়েক বছরে আরও কয়েকটি ব্রিটিশ স্কুল ভারতে ক্যাম্পাস চালু করতে পারে বলে জানা গেছে।

হ্যারো স্কুলের প্রধান ক্যারোলিন প্যাসকোর মতে, আন্তর্জাতিক পাঠ্যক্রম ভারতীয় পরিবারগুলোর কাছে আকর্ষণের অন্যতম কারণ। অভিভাবকেরা সন্তানদের পড়াশোনার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বের দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও দিতে চাইছেন।

স্কুলশিক্ষার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ বাড়ছে। ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটন ভারতে ক্যাম্পাস চালু করেছে। ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুল বেঙ্গালুরুতে ক্যাম্পাস স্থাপনের অনুমোদন পেয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ইয়র্ক ও ইউনিভার্সিটি অব এবারডিন মুম্বাইয়ে ক্যাম্পাস স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।
এ ছাড়া ল্যাঙ্কাস্টার, ব্রিস্টল, কভেন্ট্রি ও কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্টের মতো প্রতিষ্ঠানও ভারতের শিক্ষা বাজারে সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় রয়েছে।শিক্ষা খাতের এই সম্প্রসারণ ভারতীয় শিক্ষার্থীদের বিদেশে না গিয়েও আন্তর্জাতিক পাঠ্যক্রমে পড়