যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে ‘নাজা’ (NAZA) তথ্যচিত্র মুক্তির পর গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড এবং দেশটিকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আসন্ন মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের আগে বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনাতেও গুরুত্ব পেতে পারে।

ছবিটিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর শতাধিক গোপন সূত্রের সাক্ষাৎকার তুলে ধরা হয়েছে। নির্মাতাদের দাবি, কয়েকজন সামরিক সদস্য জানিয়েছেন, গাজায় কিছু হামলার ক্ষেত্রে আগে থেকেই বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষের হতাহতের আশঙ্কা সম্পর্কে জানা ছিল। গাজায় নজরদারি ও সম্ভাব্য লক্ষ্য শনাক্ত করতে এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও ছবিতে উঠে এসেছে।

তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এসব অভিযোগ ‘দ্ব্যর্থহীনভাবে’ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, বেসামরিক নাগরিক ও জঙ্গিদের মধ্যে পার্থক্য করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে এবং বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হয়। এআই ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও তারা জানিয়েছে, লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এবং হামলার সিদ্ধান্ত নেন অপারেশনাল কমান্ডাররা।

‘নাজা’র বেশ কিছু তথ্য এর আগে ‘+৯৭২ ম্যাগাজিন’, ‘লোকাল কল’ ও ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর অনুসন্ধানেও প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ১০০ জনের বেশি গোপন সূত্রের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে ছবিটি তৈরি করা হয়।

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ২৫ মিনিটের স্ট্যান্ডিং ওভেশন পেলেও ইসরায়েলে ছবিটি তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এটিকে ইহুদি-বিদ্বেষী বলে আখ্যায়িত করেছেন। নির্মাতাদের বিরুদ্ধে হুমকিরও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ রয়েছে। ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার জবাবেই অভিযান চালানো হচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ইসরায়েলি অভিযানে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

তথ্যচিত্রটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রথাগত পরিবেশক ছাড়াই মুক্তি পেয়েছে। বর্তমানে নিউইয়র্কে প্রদর্শিত হচ্ছে এবং ৯ অক্টোবর থেকে আরও কয়েকটি মার্কিন শহরে প্রদর্শনের কথা রয়েছে। নভেম্বরের শেষ দিকে ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর ওয়েবসাইটে এটি বিনামূল্যে দেখার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।