ভোলায় জন্মগত হৃদ্রোগে আক্রান্ত ১৬ মাস বয়সী শিশু রোজা মনির চিকিৎসা অর্থাভাবে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও প্রয়োজনীয় চার লাখ টাকা জোগাড় করতে পারছেন না তার দিনমজুর বাবা-মা। মেয়েকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবারটি।
রোজা ভোলা সদর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামিরালতা এলাকার বাসিন্দা মো. জাহিদ ও মিনারা বেগমের একমাত্র মেয়ে। পরিবারে তার আরও দুই ভাই রয়েছে। জাহিদ দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান। অনিয়মিত আয়ে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয় তাকে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, জন্মের পর থেকেই রোজার শারীরিক নানা জটিলতা দেখা দেয়। ভোলায় চিকিৎসা করিয়েও সুস্থ না হওয়ায় তাকে বরিশালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তার হৃদ্যন্ত্রে ছিদ্র থাকার বিষয়টি শনাক্ত করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন।
মেয়ের চিকিৎসায় নিজেদের সঞ্চয় শেষ করার পাশাপাশি ধারদেনা করে ইতোমধ্যে দুই লাখ টাকার বেশি খরচ করেছেন জাহিদ। তবে অস্ত্রোপচারের জন্য আরও চার লাখ টাকা প্রয়োজন। দরিদ্র এই পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
রোজার মা মিনারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, হার্টে ছিদ্র থাকার কারণে তার মেয়ে কিছুক্ষণ পরপর অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং শরীর নীল হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার করালে মেয়েটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বলে জানিয়েছেন। কিন্তু অর্থের অভাবে সেই চিকিৎসা করানো যাচ্ছে না।
রোজার বাবা জাহিদ বলেন, সরকারি সহায়তার জন্য ভোলা সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করেও এখনো সাড়া পাননি। মেয়ের চিকিৎসা চালিয়ে নিতে তিনি সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।
প্রতিবেশীরা জানান, এত দিন এলাকাবাসী নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী শিশুটির চিকিৎসায় সহায়তা করেছেন। কিন্তু এখন তাদের পক্ষেও আর প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থের অভাবে ১৬ মাসের শিশুটির চিকিৎসা যেন বন্ধ হয়ে না যায়, সে জন্য দ্রুত সহযোগিতা কামনা করেছে পরিবারটি।

মন্তব্য করুন