বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সরকারি ঋণ যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটির ঋণের পরিমাণ ৪১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১২৭ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশের সরকারি ও সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৮৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির প্রায় ৪১ শতাংশ।

আল-জাজিরার ২২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে ঋণের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুদ পরিশোধের চাপও বাড়ছে। বিশেষ করে ইউরোপের কয়েকটি দেশে ঋণের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো খাতে সরকারি ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি ঋণের পরিমাণে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে চীন। দেশটির ঋণ ২২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১০৪ শতাংশ। জাপানের ঋণ ৮ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১৯৯ শতাংশ। যুক্তরাজ্যের ঋণ ৪ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ফ্রান্সের ৪ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার।

ঋণের অনুপাতের হিসাবে জাপান শীর্ষে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের অঙ্ক সবচেয়ে বেশি। আন্তর্জাতিক রিজার্ভ মুদ্রা ডলারের কারণে দেশটি তুলনামূলক সহজে ঋণ সংগ্রহ করতে পারে।

আইএমএফের ২০২৬ সালের ঋণ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের সরকারি ও সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত ঋণ ছিল প্রায় ১৮৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এর অর্ধেকের বেশি ছিল অভ্যন্তরীণ ঋণ।

বাংলাদেশের ঋণ পরিস্থিতি এখনই অনিবার্য সংকটের পর্যায়ে না থাকলেও ঋণের সুদ পরিশোধ, রাজস্ব আয়ের সীমাবদ্ধতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে বাংলাদেশের ঋণসংকটের ঝুঁকি মাঝারি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বিশ্বজুড়ে সরকার, পরিবার ও কোম্পানির মোট ঋণ ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। গত এক বছরে উন্নত অর্থনীতিগুলো সরকারি বন্ডের সুদ বাবদ ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি পরিশোধ করেছে।

ঋণের সুদ বাড়লে সরকারকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে ব্যয় কমাতে হতে পারে। তাই বাংলাদেশের জন্য ঋণের পরিমাণের পাশাপাশি রাজস্ব আয় বাড়ানো, ঋণের কার্যকর ব্যবহার এবং সময়মতো কিস্তি পরিশোধের সক্ষমতা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।