বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার এবং মানবাধিকার রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে জাতিসংঘ। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠার ৮১ বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ পালিত হচ্ছে জাতিসংঘ দিবস।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুদ্ধের অভিশাপ থেকে রক্ষা করার প্রত্যয় নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় জাতিসংঘ। ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ সনদ কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে সংস্থাটি। ১৯৪৮ সাল থেকে প্রতিবছর এ দিনটি জাতিসংঘ দিবস হিসেবে উদ্যাপিত হয়ে আসছে।
দিবসটি উপলক্ষে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, শান্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকার এগিয়ে নিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার সক্ষমতার ওপর মানবতার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য এবং প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
গুতেরেস আরও বলেন, ‘জাতিসংঘ আমাদের বিশ্বের অবিচ্ছেদ্য কাঠামোর একটি অংশ। আর এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জাতিসংঘের প্রয়োজন।’
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এ পরিস্থিতিতে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার গুরুত্বও বাড়ছে।
বাংলাদেশের জন্যও জাতিসংঘ একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চ। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে সংস্থাটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তনের এই সময়ে জাতিসংঘের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ কাজে লাগানো, জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজেদের অবস্থান জোরালো করা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
প্রতিষ্ঠার ৮১ বছরে জাতিসংঘের সামনে তাই বড় চ্যালেঞ্জ—বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কার্যকর ঐকমত্য গড়ে তোলা।

মন্তব্য করুন