শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে মুনাফা করতে চান অনেকেই। তবে সঞ্চয়ের অর্থ হারানোর ঝুঁকি কমাতে কোন কোম্পানির শেয়ার কেনা উচিত, তা নিয়ে দ্বিধায় থাকেন বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে কম মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিওর শেয়ার অনেকের কাছে আকর্ষণীয়। তবে কম পিই রেশিও মানেই যে শেয়ারটি নিরাপদ বা লাভজনক, তা নয়।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, তুলনামূলক কম পিই রেশিওর ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে যমুনা ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংক।
তথ্য অনুযায়ী, যমুনা ব্যাংকের পিই রেশিও ২.৮৮, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ৩.২৩, সাউথইস্ট ব্যাংকের ৩.৪৫, এনসিসি ব্যাংকের ৩.৫১ এবং প্রাইম ব্যাংকের ৪.১৪। তবে এসব অনুপাত পরিবর্তনশীল। বিনিয়োগের আগে সর্বশেষ বাজারদর ও আর্থিক প্রতিবেদন যাচাই করা জরুরি।
পিই রেশিও দিয়ে একটি কোম্পানির শেয়ারদরের তুলনায় আয় কতটা, তা বোঝা যায়। কিন্তু কোনো ব্যাংকের মুনাফা কমে গেলে, খেলাপি ঋণ বাড়লে কিংবা ভবিষ্যৎ আয় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে কম পিই রেশিও বিনিয়োগকারীর লোকসান ঠেকাতে পারে না।
ব্যাংকের শেয়ার কেনার আগে গত তিন বছরের মুনাফা, শেয়ারপ্রতি আয়, খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি, মূলধন পর্যাপ্ততা এবং নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও মূল্যসংবেদনশীল তথ্য পর্যালোচনা করা উচিত।
বিনিয়োগকারীদের এক কোম্পানিতে সব অর্থ বিনিয়োগ না করে বিভিন্ন খাতে ঝুঁকি ভাগ করে নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। জরুরি প্রয়োজনে প্রয়োজন হবে এমন অর্থ কিংবা ধার করা টাকা দিয়ে শেয়ার কেনাও ঝুঁকিপূর্ণ।
শেয়ারবাজারে লোকসান এড়ানোর কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই শুধু কম দামের শেয়ার নয়, বরং কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা, ভবিষ্যৎ আয়ের সম্ভাবনা ও বাজারদরের যৌক্তিকতা বিবেচনা করেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

মন্তব্য করুন