ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান জানান, প্রস্তাবিত মনোরেল রাজধানীর গণপরিবহন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পরিবহনব্যবস্থা হিসেবে যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করবে।
তিনি বলেন, বিদ্যমান ও পরিকল্পনাধীন মেট্রোরেল এবং অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে মনোরেলের সংযোগ স্থাপনের সুযোগ রাখা হবে। বিশেষ করে মেট্রোরেল থেকে নেমে যাত্রীদের গন্তব্যের শেষ অংশে পৌঁছানো সহজ হবে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন (বিআরটিসি) প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিস্তারিত নকশা জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সমীক্ষা ও নকশা প্রণয়নের জন্য সরকারি রাজস্ব বাজেট থেকে ৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
হালনাগাদ সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (আরএসটিপি) প্রায় ৭৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাঁচটি মনোরেল রুটের প্রস্তাব রয়েছে। এগুলো হলো বিমানবন্দর-বসুন্ধরা, মধ্য বাড্ডা-ভুলতা, রামপুরা-ডেমরা, মোহাম্মদপুর-পোস্তগোলা এবং বিমানবন্দর-সাভার।
পাঁচটি প্রস্তাবিত রুটের মধ্যে যাত্রী চাহিদা, নির্মাণ ব্যয়, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করে দুটি চূড়ান্ত করা হবে।
ডিটিসিএ জানিয়েছে, এসব রুট নির্বাচনে জনসংখ্যা, যাত্রী চলাচল, যানজটপূর্ণ এলাকা, স্টেশন ও ডিপো নির্মাণের জায়গা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
মনোরেল মূলত উড়ালপথে চলাচলকারী বিশেষ গণপরিবহন। ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সড়কের জায়গা কম থাকায় এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় নতুন সংযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি মেট্রোরেলের যাত্রীদের যাতায়াতেও সুবিধা বাড়তে পারে।

মন্তব্য করুন