শ্রমিক অসন্তোষের কারণে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। কয়েক দিনের অস্থিরতায় বিনিয়োগে বড় ধরনের পরিবর্তন হবে, এমনটি ভাবার কারণ নেই। তবে কোনো ধরনের অস্থিরতাই কাম্য নয়।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে যৌক্তিক কারণ ছিল না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এর পেছনে স্বাভাবিক কারণের বাইরে অন্য কোনো বিষয় কাজ করেছে কি না, তা সংশ্লিষ্টরা খতিয়ে দেখবেন। সরকার ঘটনার পরপরই মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জরুরি।

স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত-বাংলাদেশ স্থলবন্দরগুলোর মাধ্যমে বাণিজ্য বাড়াতে দুই দেশকেই উদ্যোগী হতে হবে।

অনুষ্ঠানে ৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষার আকাঙ্ক্ষা থেকেই সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস ও জাতীয়তাবোধ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে।

আগামীর চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দুর্বল অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, উন্নয়ন কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সরকারি সেবার মান বাড়ানো বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনারসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।