https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এক রাতেই রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল, অধিকৃত ক্রিমিয়া, কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগরজুড়ে ৬৬০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার দাবি করেছে মস্কো। রুশ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, চলতি বছরে এটিই ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বেলগোরোদ, ব্রিয়ানস্ক, কুরস্ক, কালুগা, লিপেৎস্ক, রোস্তভ, ভোরোনেজ, তুলা, রিয়াজান, আস্ত্রাখান ও মস্কো অঞ্চলের পাশাপাশি অধিকৃত ক্রিমিয়া, কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগরের আকাশে এসব ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
হামলার সময় তুলা অঞ্চলের নোভোমস্কভস্ক শহরের অ্যাজট রাসায়নিক কারখানায় আগুন লাগে। এতে অন্তত একজন নারী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রুশ বার্তা সংস্থা তাস।
এদিকে ইউক্রেনের বার্তা সংস্থা ইউক্রেনইনফর্ম জানিয়েছে, রাতভর ক্রিমিয়ার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিশেষ করে কের্চ শহর ও কের্চ ফেরি পারাপার এলাকার কাছে বিস্ফোরণ ঘটে। কের্চের কাছে একটি বিমানঘাঁটিতে আগুন লাগার খবরও পাওয়া গেছে। ওই ঘাঁটিতে রাশিয়ার প্যান্টসির-এস১ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার স্টেশন মোতায়েন ছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
নিরাপত্তাজনিত কারণে কের্চ সেতু দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় রুশ কর্তৃপক্ষ।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ক্রিমিয়াকে লক্ষ্য করে ইউক্রেনের হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, রুশ বাহিনীর সরবরাহ ব্যবস্থায় ধারাবাহিক আঘাতের ফলে ক্রিমিয়ায় জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের বর্তমান কৌশলের মূল লক্ষ্য সরাসরি ক্রিমিয়া পুনর্দখল নয়; বরং রাশিয়ার সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে উপদ্বীপটিকে কার্যকরভাবে বিচ্ছিন্ন করা। সে কারণেই কের্চ সেতু, সামরিক ঘাঁটি, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং লজিস্টিক অবকাঠামোতে ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে।
২০১৪ সালে ক্রিমিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেয় রাশিয়া এবং পরে অঞ্চলটিকে নিজেদের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেয়। তবে ইউক্রেন ও অধিকাংশ পশ্চিমা দেশ এখনো ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে।