https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
২৭ দিন ধরে আটলান্টিক মহাসাগরে ভেসে থাকার পর স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কাছে একটি অভিবাসনপ্রত্যাশীবাহী নৌকা থেকে ৪৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নৌকাটিতে পাঁচটি মরদেহ পাওয়া গেছে। নৌকাটিতে থাকা ১২৭ জনের মধ্যে ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
স্পেনের সংবাদ সংস্থা ইএফই জানিয়েছে, গাম্বিয়া থেকে গত ৭ আগস্ট স্পেনের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল নৌকাটি। যাত্রার সময় এতে চার নারী ও এক শিশুসহ ১২৭ জন ছিলেন। দীর্ঘদিন সাগরে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ভেসে থাকার পর বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) উদ্ধারকারীরা নৌকাটির সন্ধান পান।
নৌকার ভেতরে পাঁচটি মরদেহ পাওয়া গেলেও উত্তাল সমুদ্রের কারণে সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আরগুইনেগুইনের জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, পাওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে এক শিশু ও দুই নারী ছিলেন।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সবাই গাম্বিয়া ও মালির পুরুষ নাগরিক বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। দীর্ঘদিন সমুদ্রে থাকার কারণে তাদের অনেকেই তীব্র পানিশূন্যতায় ভুগছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে সমুদ্রের পানি পান করায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তিনজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
স্পেনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গার্ডিও সিভিল জানিয়েছে, নৌকাটির গায়ে থাকা চিহ্নের সঙ্গে ৭ আগস্ট গাম্বিয়া থেকে যাত্রা করা একটি নৌকার তথ্য মিলে গেছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বক্তব্যেও শতাধিক যাত্রী নিয়ে গাম্বিয়া থেকে যাত্রার বিষয়টি উঠে এসেছে। তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘ যাত্রাপথে তাদের অনেক সহযাত্রী মারা যান।
সমুদ্র উদ্ধার সংস্থা সালভামেন্তো মারিতিমোর একটি বিমান বুধবার বিকেলে গ্রান কানারিয়া থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে নৌকাটিকে শনাক্ত করে। পরে মধ্যরাতে উদ্ধারকারী জাহাজ গুয়ারদামার উরানিয়া সেখানে পৌঁছে জীবিতদের উদ্ধার করে।
পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার সমুদ্রপথটি গত কয়েক বছরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ রুটে পরিণত হয়েছে। গাম্বিয়া থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। ছোট নৌকায় এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে ইঞ্জিন বিকল হওয়া, খাদ্য-পানির সংকট, প্রবল স্রোত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রায়ই প্রাণহানি ঘটে।
সাম্প্রতিক সময়েও একই রুটে প্রাণঘাতী একাধিক ঘটনা ঘটেছে। আগস্টের শুরুতে ১৩৩ জনকে নিয়ে গাম্বিয়া থেকে রওনা দেওয়া একটি নৌকা ১১ দিন পর উদ্ধার করা হয়। এর আগে ২২ জুলাই ১৬৫ জনকে বহনকারী আরেকটি নৌকা ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছালে একজনের মৃত্যু হয় এবং ১৫ জন আহত হন।
জানুয়ারিতে গাম্বিয়ার উপকূলে একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার পর ৯৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের দাবি, ওই নৌকায় প্রায় ২০০ জন ছিলেন। ফলে প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়।