চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির ফুটবলকে আবারও বিশ্বমঞ্চে ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। টানা তিনটি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে দুই কিংবদন্তি—পাওলো মালদিনি ও লিওনার্দোর হাতে।
শনিবার ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন কিংবদন্তি ডিফেন্ডার পাওলো মালদিনিকে জাতীয় দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর এবং ব্রাজিলের ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী সাবেক তারকা লিওনার্দোকে বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
ইতালিয়ান ফুটবলের এই নতুন অধ্যায়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফেডারেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি জিওভান্নি মালাগো। তিনি জানান, জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ নিয়োগের আগে মালদিনি ও লিওনার্দোকে দায়িত্ব দেওয়াই ছিল তাদের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
মালাগোর ভাষায়, এই দুই ফুটবল ব্যক্তিত্ব একই লক্ষ্যে কাজ করবেন। ২০৩০ বিশ্বকাপ এবং এর আগে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে চার বছরের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে তাদের ওপর।
মালদিনি ও লিওনার্দোর সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। দুজনই একসময় এসি মিলানের জার্সিতে সতীর্থ ছিলেন। পরে লিওনার্দো ইন্টার মিলান ও এসি মিলানের কোচ এবং প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইনের (পিএসজি) স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সেই অভিজ্ঞতাই এবার কাজে লাগাতে চান ইতালিয়ান ফুটবল কর্তারা।
নতুন দায়িত্বে তাদের প্রথম কাজ হবে জাতীয় দলের প্রধান কোচ নিয়োগ করা। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে ব্যর্থ হওয়ার পর জেন্নারো গাত্তুসো পদ ছেড়ে দিয়েছেন।
ইতালির নতুন কোচ হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছেন দুই অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ রবার্তো মানচিনি ও আন্তোনিও কন্তে। মানচিনির অধীনে ইতালি ২০২১ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতলেও ২০২২ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করতে পারেনি। এরপর তিনি সৌদি আরবের জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন এবং পরে কাতারের আল-সাদ থেকেও সরে দাঁড়ান।
অন্যদিকে আন্তোনিও কন্তে ২০১৬ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ইতালির কোচ ছিলেন। সম্প্রতি নাপোলির দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনিও জাতীয় দলের সম্ভাব্য কোচ হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দল ইতালিকে আবারও শীর্ষ পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে মালদিনি ও লিওনার্দোর এই যুগল দায়িত্ব কতটা সফল হয়, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের বড় আগ্রহের বিষয়।

মন্তব্য করুন