আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি বাড়তে পারে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে পানি উঠতে পারে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র শনিবার দেওয়া পূর্বাভাসে এ আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের প্রধান সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পর্যবেক্ষণে থাকা ১২৭টি পানি সমতল স্টেশনের কোনোটি বিপৎসীমার ওপরে নেই। এর মধ্যে ৩০টি স্টেশনে পানি বেড়েছে, ৯২টিতে কমেছে এবং পাঁচটিতে অপরিবর্তিত রয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিনে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সময়ে উজানেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও আগামী চার দিনে বাড়তে পারে। গঙ্গা-পদ্মার পানি আগামী তিন থেকে পাঁচ দিন কমার সম্ভাবনা রয়েছে। সুরমা-কুশিয়ারার পানিও আগামী তিন দিন কমতে পারে।
তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী দুই দিনে বাড়তে পারে। বিশেষ করে তিস্তার পানি নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার কিছু এলাকায় সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর স্টেশনে তিস্তার পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।
তবে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ধরলা ও তিস্তার পানি আগামী ৭২ থেকে ১২০ ঘণ্টায় বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচেই থাকবে। যমুনার পানিও আগামী দুই থেকে পাঁচ দিনে কয়েক সেন্টিমিটার করে বাড়তে পারে।
এদিকে ঢাকার আশপাশের বুড়িগঙ্গা, বালু, তুরাগ, টঙ্গীখাল ও ধলেশ্বরী নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী তিন দিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এসব নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচে থাকবে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

মন্তব্য করুন