https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর বিচার আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। তবে বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করা হবে না; আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনেই স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) আয়োজিত ‘জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার: রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর এখন পর্যন্ত ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট ২৬-২৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং সারা দেশে ১০৯টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়া ঘটনাগুলো পর্যায়ক্রমে বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিচার আরও দ্রুত শেষ করা সম্ভব হলেও তাতে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বাছাই করে আসামি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ নাকচ করে মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে তদন্ত পরিচালনা করেন এবং প্রসিকিউশন তদন্তে কোনো হস্তক্ষেপ করে না। কোথাও ঘাটতি বা অসংগতি পাওয়া গেলে তা পুনঃতদন্তের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন শুধু জুলাইয়ের ঘটনায় সীমাবদ্ধ নয়; স্বাধীনতার পর থেকে গুম, ক্রসফায়ারসহ বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে এ ধরনের লঙ্ঘন ঘটেছে। একটি সভ্য রাষ্ট্র গঠনে মানবাধিকারের চর্চা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ায় ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়ের বিষয়টিও তুলে ধরে তিনি বলেন, দায়িত্বে থেকে নিষ্ক্রিয় থাকাও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একই সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি।
গোলটেবিল আলোচনায় জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্য, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, শিক্ষক, গবেষক ও সাংবাদিকরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, জুলাই-আগস্টের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার যেন কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার না হয়; বরং প্রমাণভিত্তিক, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডসম্মত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা, তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ, দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে এইচআরএসএস ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও ভবিষ্যতে মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে জবাবদিহিতার কাঠামো শক্তিশালী করার সুপারিশও তুলে ধরে।