https://timenewsbangla.com

ছবি: -সংগৃহীত
গত জুনে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬ হাজার ১২৫ জনে পৌঁছেছে। দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি জর্জ রদ্রিগেজ সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ভূমিকম্পে আহত হয়ে ৬১ হাজার মানুষ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জর্জ রদ্রিগেজ হতাহতের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেন। তবে একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলা কার্যক্রম নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা আরও বেড়েছে।
ভূমিকম্পের পর নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। অনেক বাসিন্দার অভিযোগ, সরকার ও সামরিক বাহিনীর উদ্ধার অভিযান যথেষ্ট দ্রুত ও কার্যকর ছিল না। তাদের দাবি, এতে অনেক মানুষ সময়মতো জরুরি সহায়তা পাননি।
গত ২৪ জুন দেশটিতে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্য এবং রাজধানী কারাকাস। অসংখ্য ভবন ধসে পড়ে, ক্ষতিগ্রস্ত হয় সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন।
সরকার জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের প্রায় ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। তবে পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের ধীরগতি নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুরোপুরি পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। বিভিন্ন দেশ সহায়তার আশ্বাস দিলেও সেই অর্থ কবে এবং কীভাবে পাওয়া যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার পর দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব এবং বহাল থাকা কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্গঠন কার্যক্রমকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ অবস্থায় মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক মহল অবশিষ্ট নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও পুনর্গঠন তহবিল দ্রুত ভেনেজুয়েলায় পৌঁছানো সম্ভব হয়।